Wednesday, October 31, 2012

সময়ের সঙ্গী ইংরেজি

সময়ের সঙ্গী ইংরেজিসময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে আমরা কত কিছুই না করি। এর মধ্যে কিছু কাজ করি শখের বশে, কিছু কাজ প্রয়োজনে আর কিছু কাজ নিতান্তই অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে। ইংরেজি শিক্ষার বিষয়টা অনেকটাই সে রকম। এই আধুনিক সময়ে ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা না থাকলে অস্তিত্ব টিকবে না, এটা জোর দিয়েই বলা যায়। আগে শুধু দেশের বাইরে পড়াশোনা বা চাকরি করতে গেলেই কেবল ইংরেজি শেখা জরুরি হয়ে পড়ত।
এখন ভালো ইংরেজি না জানলে দেশের ভেতরেও অকেজো হয়ে পড়তে হয়। লজ্জা পেতে হয় পদে পদে। তাই প্রয়োজন তো বটেই, নিজের সম্মান বাঁচাতেও ইংরেজি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। যারা কাজ বা পড়াশোনার জন্য দেশের বাইরে যায়, তারা সবাই ইংরেজি শিখেই যায়। সবাই যেখানে ইংরেজি জানে, সেখানে গড়পরতা ইংরেজি দিয়ে কারো নজর কাড়া সম্ভব নয়। তাই দরকার হয় এতটা ভালো ইংরেজি জানা, যাতে সবার মধ্যে ব্যতিক্রম হওয়া যায়। এর জন্যে চাই নিয়মিত চর্চা।
যারা ছোটবেলা থেকেই ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করে এসেছে, তাদের জন্য ভালোভাবে ইংরেজি আয়ত্ত করা কোনো ব্যাপারই নয়। অন্যদের কাছে বাংলায় কথা বলা যেমন সহজ তাদের কাছে ইংরেজিতে কথা বলা ঠিক তেমনই সহজ। তাই ‘এ’ লেভেল এবং ‘ও’ লেভেল করা শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারছে দেশের বাইরের পরিবেশের সঙ্গে। এদিক থেকে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা অনেকটাই অসহায়। তবে তাদের সহায় হতে আজকাল এগিয়ে আসছে অনেক প্রতিষ্ঠানই। ঢাকার ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং আমেরিকান সেন্টার ইংরেজি শেখানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ইংরেজি ভাষার সঠিক প্রয়োগ, শুধু উচ্চারণ ও সঠিক পদ্ধতিতে শেখানোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানগুলো। ভিন্ন ভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে তারা চালু করেছে নানা ধরনের কোর্স।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে আইএলটিএস প্রিপারেশন কোর্স, সাধারণ ইংলিশ কোর্স, ফাউন্ডেশন কোর্স এবং বিজনেস ইংলিশ কোর্স। উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনার পর যেসব শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে পড়তে আগ্রহী, তারা বেছে নিতে পারে এক বছর মেয়াদি ফাউন্ডেশন কোর্স। ইংরেজি শিখতে হলে যে শুধু কোর্স করে শিখতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আজকাল অনেক মাধ্যমই বের হয়েছে, যার প্রতি একটু মনোযোগ দিলেই ইংরেজি শেখা সম্ভব। ইংরেজি সিনেমা দেখার প্রতি এখন অনেকেই মনোযোগী।
ইংরেজি শিক্ষা প্রসারের জন্য বিবিসি জানালাও এখন কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ যেন ইংরেজি সম্পর্কে জানতে পারে সে লক্ষ্যেই তারা কাজ করে যাচ্ছে।

জীবন সাজাতে ও দক্ষতা বাড়াতেতরুণদের এই সমস্যাটি কিন্তু আজকের নয়, এটা বহুদিনের পুরনো। প্রায়ই তরুণদের ক্যারিয়ার নিয়ে মা-বাবার সিদ্ধান্ত এবং নিজেদের ইচ্ছা দুটি মিলিয়ে তালগোল পাকাতে দেখা যায়, তখন তারা সহজেই হারিয়ে ফেলে নিজেদের কর্মদক্ষতা।
‘আমার ছেলে বড় হয়ে ডাক্তার হবে’ জšে§র সঙ্গে সঙ্গেই আত্মীয়স্বজনদের সামনে বাবাদের এই উচ্ছ্বাস আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কোনো না কোনো সময় ঘটে থাকে। কিন্তু কখনো কি জিজ্ঞেস করে দেখেছেন আমাদের বাবারা, ‘বাবা তুমি বড় হয়ে কী হতে চাও?’ খুব বেশি একটা পজেটিভ উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে না, কেননা জšে§র পর পরই বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানের জীবনের নীতি-নির্ধারণ নিজেরাই করতে পছন্দ করেন। কিন্তু তাই বলে নিজেদের জন্য সন্তানের ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া যে একান্ত জরুরি, তা তারা ভুলে যান। পরবর্তীকালে এই দোদুল্যমান ব্যবস্থায় সন্তানের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ হয়ে ওঠে নানা শঙ্কাযুক্ত। সে তখন নিজের কর্মগুণের কথা ভুলে যায় এবং নিজে একটি উদ্ভান্তির মধ্যদিয়ে ক্যারিয়ারের দিকে এগোয়। তখন সে নিজের সঠিক কর্মদক্ষতা থেকে অনেক দূরে সরে আসে, শিক্ষক থেকে চিকিৎসক। ব্যাংক কর্মকর্তা থেকে প্রকৌশলী। সব পেশায়ই আছে নিজস্ব দক্ষতার কেরামতি। একেক পেশার যোগ্যতা বা দক্ষতার রূপটি হয় একেক রকম। তবে কিছু কিছু দক্ষতা আছে, যা প্রতিটি পেশা বা চাকরির জন্যই দরকার। এ দক্ষতাগুলো সহায়তা করে চাকরি পেতে এবং কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে। তাই ছোটবেলা থেকে তরুণ বয়সের মধ্যেই নিজের কর্মদক্ষতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে উঠুন। এ যোগ্যতাটিই ভবিষ্যতে অনেকাংশে নির্ধারণ করবে আপনার চাকরি পাওয়া থেকে শুরু করে পেশাজীবনের সফলতা।   








সাফল্যের পূর্ণতা পেতে হলে ক্যারিয়ারযে কোনো কাজেই পূর্ণতা এনে দেয় সাফল্যের চূড়ান্ত ছোঁয়া। তাই কাজ শেষে তা কত
নির্ভুল ও নিখুঁত হয় তার ওপরই নির্ভর করে সাফল্যের সংজ্ঞা। তবে এই পূর্ণতার মাপকাঠি কিন্তু একেকজনের কাছে একেক ধরনের। তরুণদের কাছে তার প্রতিদিনের কাজের
পাশাপাশি সেই সাফল্যের পূর্ণতাও প্রয়োজন। লিখেছেন- নাজমুল হক ইমন
লক্ষ্য নির্ধারণ করুন: আমরা বেশিরভাগ মানুষই জানি না, আসলে আমরা কী চাই বা কোন চাওয়া নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে সন্তুষ্টিও অর্জন করতে পারি না। কোনো কাজের লক্ষ্য হতে হবে আপনার একান্ত কাম্য বা গভীর আগ্রহের বস্তু। লক্ষ্য সাফল্যের সিঁড়িতে পৌঁছতে সহায়তা করে। তাই আপনার লক্ষ্যকে মনের মাঝে প্রতিষ্ঠিত করুন।
আত্মবিশ্বাস: সফলতার যদি কোনো অন্তরায় থাকে, তাহলে তা হচ্ছে আত্মবিশ্বাসের অভাব। কেউ যদি ভাবে, ‘আমি পারব না’। ব্যস। নিশ্চিতভাবে সে ব্যর্থ। কারণ সে চেষ্টা করে না বা চেষ্টা করার আগেই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। বিশ্বাসের মাত্রা হতে হয় খুব দৃঢ়। যদি মনে বিশ্বাস থাকে লক্ষ্য যতই কঠিন হোক না কেন, বিজয় নিশ্চিত।
পরিকল্পনায় আনুন সুচিন্তা: সফলতা অর্জনের জন্য চাই সুচিন্তিত ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, যাকে আমরা অন্য কথায় নকশা বা মানচিত্রও বলতে পারি। এটি ছাড়া আপনি সফল হতে পারবেন না। আপনার অবস্থান ও আপনার কাক্সিক্ষত গোলের অবস্থানের দূরত্বটা মাথায় রাখুন। এর মাঝে কিছু বাধা আসতে পারে। বাধাগুলোকে চিহ্নিত করুন।
কর্মতৎপরতা বাড়ান: দক্ষতা বর্তমানে সফলতার অন্যতম নিয়ামক। দক্ষতা ও কর্মতৎপরতার মাঝে সামান্য পার্থক্য আছে।
সময়ের সঠিক ব্যবহার: অনেক ক্ষেত্রে আমরা আজকের কাজ কালকের জন্য ফেলে রাখি। আমাদের টনক না নড়া পর্যন্ত এই কাজটি আমরা বারবার করি, কিন্তু সময় তো আর বসে থাকে না। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, অনেক সময়ের অবমূল্যায়নের ফলে জীবনে নেমে আসে হতাশা আর জীবন সম্পর্কে অনীহা।
গড়ে তুলুন ইতিবাচক মনোভাব: আপনার লক্ষ্যের প্রতি থাকা চাই আপনার ইতিবাচক মনোভাব। এই মনোভাব আপনাকে সাফল্যের দিকে টানবে। যাদের কোনো কাজে মন নেই বা নেতিবাচক মনোভাব আছে, তারা সফলতার মুখ দেখতে পান না। ইতিবাচক মনোভাব হচ্ছে আশা।
বাড়িয়ে তুলুন যোগাযোগ: বর্তমান যোগাযোগের গুরুত্ব অনেক। আজ আর বিজ্ঞানের কল্যাণে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের খুব একটা ঝামেলা পোহাতে হয় না। তাই মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক একটা বড় বিষয়। মানুষ কখনোই একা চলতে পারে না। মানুষের বেঁচে থাকা, মানুষের চলাফেরা, কর্ম, সফলতা- সব ক্ষেত্রেই দেখা যায় কোনো না কোনো মানুষ কিছুটা হলেও প্রভাবিত করছে।
ধৈর্য ও মানসিক প্রশান্তি: যদি সফল হতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই ধৈর্যশীল হতে হবে এবং কাজে মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে হবে। ধৈর্যশীলতা আপনাকে নতুন করে কাজে আগ্রহ বাড়াবে এবং প্রশান্তি বজায় থাকলে আপনার কাজটিকে আর একঘেয়ে মনে হবে না।
কোথায় খুঁজবেন স্বপ্নের চাকরিঅনেক সময় আশানুরূপ চাকরি না পেয়ে হতাশা আসতে পারে। তবে হতাশ হয়ে পড়লে চলবে না। হতাশ হয়ে পড়লে সামনে দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। তবে, এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য। এ ধৈর্যই পারে আপনাকে আপনার চাহিদা অনুযায়ী চাকরিটির খবর দিতে।
জব সাইট: আপনাকে মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তির উšে§ষ ঘটিয়ে বাংলাদেশে এখন চাকরির অনেক বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়ে থাকে অনলাইন ভিত্তিক জবসাইট গুলোতে। চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য থাকে কম মূল্যে যেন তাদের প্রতিষ্ঠানের চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যায়। এক্ষেত্রে অনলাইন জবসাইটগুলো তাদের পত্রিকার তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে।
তবে, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে থাকে, একই সঙ্গে অনলাইনের জবসাইটেও তাদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে। আপনাকে চাকরি খুঁজে নিতে হলে নিজের আগ্রহেই এর বিজ্ঞপ্তিতে চোখ রাখতে হবে প্রতিনিয়ত।
পরিচিত মাধ্যম: চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনেক সময়ই প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঘোষণা করা হয় না। কেননা পদসংখ্যা কম থাকায় এবং আমাদের দেশে চাকরি প্রার্থীর সংখ্যা অত্যধিক থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে আগ্রহী হয়ে ওঠে না। তবে বিষয়টি কেবল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।
মনোযোগী হন: আমাদের দেশে অনেকের মধ্যেই বদ্ধমূল ধারণা রয়েছে, যে কোনো প্রতিষ্ঠানে যে কোনো ধরনের চাকরিই তার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এখানে একটি বিষয় আপনাকে মনে রাখতে হবে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই তার পদের বিপরীতে যোগ্য ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দিয়ে থাকে। এতে আপনাকে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে আপনার কাজ করার সুযোগ রয়েছে, তা আগেই স্থির করে নিতে হবে।
বাস্তবতা উপলব্ধি করুন: অনেকেই চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানের দেয়া বিজ্ঞপ্তির সেরা পদগুলোতে আবেদন করে থাকে। কিন্তু আপনি যদি সদ্য পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে চাকরির আবেদন করে থাকেন, তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে সেসব পদে আপনার চেয়ে বেশি যোগ্য ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি চাকরির জন্য আবেদন করে থাকে।
যে পদে আবেদন করবেন না: অনেকের মধ্যেই ধারণা রয়েছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত নিু যোগ্যতাসম্পন্ন পদে আবেদন করলে চাকরি নিশ্চিতভাবেই পাওয়া সম্ভব হবে। ধারণাটি সম্পূর্ণ ভূল।
অনাকাক্সিক্ষত আচরণ: ইন্টারভিউ বোর্ডে অনেকেই প্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গ এড়িয়ে অনাকাক্সিক্ষত আচরণ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে যা উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছে কোনোমতেই কাম্য নয়। আপনার যোগ্যতার প্রতিফলন ঘটাতে এখন থেকেই পরিকল্পনামাফিক কাজ শুরু করুন।
ছাত্রজীবন টু কর্মজীবন ক্যারিয়ার ফিউচারছাত্রজীবনে সবারই স্বপ্ন থাকে পড়াশোনা শেষ করে নিজেকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার। ক্যারিয়ারের সম্মানজনক স্থানে অবস্থান করে একটা সুখের নীড় গড়ার। পরিকল্পনা অনুুযায়ী প্রস্তুতি না থাকার কারণে অনেকেরই সে স্বপ্ন পূরণ হয় না। ভেঙেচুরে খান খান হয়ে যায় ছাত্রজীবনের সোনালি স্বপ্ন। তখন তাকে নিদারুণ হতাশার মধ্যে পড়তে হয়।

আমাদের জীবনে বিভিন্ন সময়ে মুখোমুখি হতে হয় বিভিন্ন পরিস্থিতির। আর এগুলোকে জয় করেই জীবন এগিয়ে চলে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রীয় কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে মানুষ হয়ে ওঠে জ্ঞানী-মহাজ্ঞানী চিরস্মরণীয়। একজন সফল ব্যক্তির জীবনের প্রতিটি স্তরে যথার্থ পরিকল্পনা নিয়ে সময়ের সদ্ব্যবহার করে জীবনকে সাজান। আপনিও যদি অন্যান্য সফল ব্যক্তির মতো জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে একটি ভালো পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কোনো কিছু করার আগে কাজটা কীভাবে সুন্দর, যথাযথ ও সঠিকভাবে, কম সময়ে শেষ করা যায় সে জন্য আগে থেকে চিন্তা করাই হলো পরিকল্পনা। একজন মানুষ তার জীবনের শুরুতেই যদি একটি ভালো পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে তাহলেই তার জীবন পাল্টে যেতে পারে।
ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ছাত্রজীবন থেকেই প্রস্তুতি নেয়ার চেষ্টা করুন। হুট করে কোনো কাজ করতে যাবেন না। ফেইলিওর হলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়বেন না। ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ডেভেলপ করা আপনার পক্ষে তখন কঠিন হয়ে যাবে। ধৈর্য ধরুন। এখন থেকেই জীবন-রণক্ষেত্রে নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিন।
ছোটবেলা থেকে আমাদের মনে বিভিন্ন ভয় কাজ করে। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব মানসিক ভয় কাটিয়ে উঠতে না পারলে ক্যারিয়ার দ্রুত ডেভেলপ করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, পারিবারিক কলহ, পরিচিতির অভাব ইত্যাদি সমস্যা মাথায় থাকলে নিজেকে অনেক দুর্বল মনে হয়। মনে রাখবেন, জীবন চিরদিনই সংগ্রামমুখর। এসবে ভয় পাবেন না। দৃঢ় প্রত্যয়ী হোন। ভীতিগুলো জয় করার চেষ্টা করুন। মনীষীদের জীবনী পড়ায় অভ্যস্ত হোন। তাদের নিয়ে ভাবুন। মনীষীদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা অত্যন্ত দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে বড় হয়েছেন। জীবনকে গড়ে নিতে অনেক সংগ্রাম করেছেন। তাদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করুন। এতে আপনার কষ্ট অনেকটা লাঘব হবে। যে কোনো কঠিন কাজ মোকাবিলা করার সাহস আসবে।

শেষ পর্যন্ত চাকরি পেয়েই গেলামক্যারিয়ার
ভালো কিছু দিয়েই শুরু করুন: প্রতিটি অফিসেই বেশকিছু সুযোগ-সুবিধা থাকে। এগুলো সবাই ভোগ করতে পারে না। তারাই ভোগ করতে পরে, অফিসে যারা ভালো কর্মদক্ষতা দেখাতে পারে। তাই প্রথম দিকে অফিসে নিজের ইতিবাচক প্রভাব তৈরিতে একটু বেশিই মনোযোগ দিন। আপনি নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করুন, যেন অফিসের কোনো কঠিন প্রজেক্টে বা অফিসের কোনো সুযোগের অফার আপনাকেই দেয়া হয়। নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করুন। সুযোগের সদ্ব্যবহার করুন। কঠিন পরিশ্রম করুন।
কর্ণধারদের মেনে চলুন: চাকরি করবেন অথচ বসের আদেশ-নিষেধ মেনে চলবেন না, তা তো কল্পনাই করা যায় না। চাকরিতে জয়েন করার প্রথম সপ্তাহেই আপনার বসের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নানা ব্যাপারে খোলামেলা আলোচনা করুন। সেই সঙ্গে জেনে নিন কী করে আপনার বসকে সন্তুষ্ট রাখবেন। আপনার বস কীভাবে তথ্য আদান-প্রদান করেন, তিনি কী ধরনের নির্দিষ্ট কর্মধারা মেনে চলেন, আপনার সঙ্গে কাজ করার সময় আপনার কাছ থেকে কী ধরনের অংশগ্রহণ তিনি আশা করেন ইত্যাদি মাথায় রেখে তার সঙ্গে কাজ করুন।
বস সংক্রান্ত আরো কিছু: প্রতিদিন কাজকর্ম, কথাবার্তা এবং আচার-আচরণ দিয়ে বসকে তো সন্তুষ্ট রাখবেনই, সম্ভব হলে তিন মাস পর পর আপনার বসের কাছ থেকে আপনার কর্মকৃতিত্বের মূল্যায়ন জেনে নেবেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই বিশেষ কিছু লোক থাকেন, যারা সিদ্ধান্ত নিতে এবং নতুন কৌশল বা উদ্যোগ নিতে প্রতিষ্ঠানকে সাহায্য করে থাকেন।
নতুন নতুন আইডিয়া: আপনার মেধা কতটুকু, তা আপনিই ভালো জানেন। আপনার যদি নতুন কিছু প্রবর্তনের মেধা থাকে, তবে তা কাজে লাগানোর আগে জেনে নিন আপনার কোম্পানি নতুন কিছু গ্রহণের ক্ষেত্রে কী ভূমিকা নেয়। বসদের মন-মানসিকতা এবং পছন্দ-অপছন্দের ওপর নির্ভর করে অনেক কিছুই। আপনার নতুন আইডিয়া তারা কীভাবে নেবেন, তা বুঝে-শুনে শেয়ার করুন। আপনি যদি এ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে মেনে চলেন, তাহলে চাকরিতে আপনার উন্নতি হবেই হবে। আপনার সাফল্য দেখে ঈর্ষা করবে অনেকেই, তাই বলে রুদ্ধ হবে না আপনার সাফল্যের পথ।
শেষ হয়ে গেল শিক্ষাজীবন। পড়াশোনার ঝামেলা আর নেই, নেই প্রতিদিন কলেজ-ভার্সিটিতে যাওয়ার চিন্তা। এখন কাজ একটাই, চাকরি খোঁজা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মেধা আর ভাগ্যের জোরে একটা চাকরিও আপনি পেয়ে গেলেন। বেকারত্ব ঘুচল। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল পরিবারের সবাই। মাস শেষে ভালো অংকের টাকা পেলে। সে 

No comments:

Post a Comment