Wednesday, October 31, 2012

লেগে থাকুন নাছোড়বান্দার মতো

লেগে থাকুন নাছোড়বান্দার মতোচাকরি ক্ষেত্রে প্রমোশন কিংবা ব্যবসায় উন্নতির ক্ষেত্রে আনুষঙ্গিক বাধা বিপত্তিকে টপকাতে হবে এতে কোনো কিছু চিন্তা করারই অবকাশ নেই। আর আর্থিক উন্নতি ও প্রমোশনের ক্ষেত্রে সততা ও সহিষ্ণুতা থাকাটা জরুরি। হতে হবে সুযোগ সন্ধানীও। সুযোগ বারবার আসে না। তাই সুযোগ আসা মাত্র তা গ্রহণ করতে হবে। আপনি যে কাজ করবেন সে সিদ্ধান্তটা নেয়া হয়েছে। আপনাকে এবার আরো কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে। যেমন আপনি যা করছেন তা কি পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাবে? কাজটি কি আপনার ক্যারিয়ার গড়তে যথেষ্ট উপযোগী? এই প্রশ্নগুলোর যথোপযুক্ত জবাব বের করেই আপনাকে কাজে হাত দিতে হবে। অন্যথায়, আপনার কাজের ক্ষেত্রই আপনাকে সফলতা পেতে দিবে না। ব্যর্থতার সাগরে ডুবাবে।
আপনার বসের চাহিদামাফিক আপনাকে কাজ করতে হবে আর এটাই উচিত। তবে জানতে হবে আপনার কাছে তার চাহিদা কী? বা, কী করলে প্রতিষ্ঠান আরো উন্নত হতে পারবে, হতে পারবে লাভবান? প্রতিষ্ঠান নিয়ে আপনার উচ্চাকাক্সক্ষার প্রমাণ দিতে হবে। আপনার প্রতিষ্ঠান আপনার সাফল্য সম্পর্কে জানবে। জানবে আপনার দক্ষতা, কর্মক্ষমতা, কর্মস্পৃহা, সততা ইত্যাদি সম্পর্কেও। এরপরও বাচনভঙ্গি, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি তো আছেই। তারপরই না পদোন্নতির প্রশ্ন। যদি নতুন অবস্থানে আপনার সমর্থ প্রমাণ করতে পারেন, তখনি কেবলমাত্র আপনাকে নতুন অবস্থানের জন্য স্থায়ীভাবে বহাল করবে। নতুন অবস্থানে আসার পর আপনাকে আপনার নিজের কাজকেও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। নিজেকে স্থির করে নিতে হবে-‘হ্যাঁ! আমি পারব’। আরো একটি বিষয়ে মনস্থির করতেই হবে যে আমি আমার সাফল্যের জন্য অতিরিক্ত সময়ও ব্যয় করতে পারব।
অনেকের ধারণা সকাল-সন্ধ্যা কাজ করলেই প্রমোশন পাওয়া যাবে। কিন্তু এই ধারণাটা ভুল। সকাল-সন্ধ্যা কাজ করলেই প্রমোশন পাওয়া যাবে না। প্রমোশন পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই কর্মদক্ষতা, বিচক্ষণতা, কর্মস্পৃহা, উন্নত ধারণা, নতুন নতুন কাজ করার মতো সাহস থাকতে হবে যা আপনার ঊর্র্ধ্বতনের নজর কাড়বে। তাছাড়া ঊর্ধ্বতন যেভাবে চায় তার পুরোটাই দিতে পারলে ভালো।
আপনার উচিত ঊর্ধ্বতনকে নতুন নতুন পরিকল্পনার কথা জানানো। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যখন ব্যস্ত থাকে তখন অবশ্য এই কাজ করা ঠিক নয়। একটি ভালো সময় বিচার করেই আপনাকে কাজটি করতে হবে। সময়টা হতে পারে লাঞ্চের সময় কিংবা অফিস শেষে অথবা কোনো আনন্দঘন মুহূর্তে। মনে করেন আপনার প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোনো ওয়েব সাইট নেই। আপনার প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওযেব সাইট তৈরি করার জন্য আপনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতনকে আহ্বান করলেন। ওয়েব সাইটটি তৈরি করতেও আপনি সাহায্য করলেন। এতে আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আপনার প্রতি খুশি থাকবে।



ক্যারিয়ারজীবনের প্রথম চাকরি
স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পার হয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিভি পাঠিয়ে, ইন্টারভিউ দিয়ে দিয়ে অবশেষে পেয়ে গেলেন জীবনের প্রথম চাকরি। ফ্রেশ এক্সিকিউটিভ হিসেবে প্রথম দিন থেকেই অফিস পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে। প্রতিদিনই শিখবেন নতুন নতুন বিষয়। লিখেছেন নাজমুল হক ইমন
বাংলাদেশে গত এক দশকে বিজনেসের গতিধারায় যথেষ্ট পরিবর্তন এসেছে। বাইরের মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় কোম্পানিগুলো তৈরি করছে প্রতিযোগিতাপূর্ণ কাজের পরিবেশ। প্রতিনিয়ত বাজারে নতুন প্রোডাক্ট আসছে, মানুষ এখন ব্র্যান্ড সম্পর্কে সচেতন, সেলসের নেটওয়ার্ক বড় হয়ে গেছে, মিডিয়াতে এখন অনেক চ্যানেল কাজ করছে। ফলে প্রতিযোগিতা বাড়ছে সব ক্ষেত্রে। প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই সময়ে জীবনে সফলতার জন্য ক্যারিয়ার পরিকল্পনা প্রতিটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই বদলে যাচ্ছে তারুণ্যের ক্যারিয়ার ভাবনা। স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে প্রায় ১৭ বছর পড়াশোনা করেছেন।
জ্ঞান অর্জন করেছেন। প্রাপ্ত জ্ঞান স্মরণ রেখেছেন। ছাত্র জীবনে মাঝে মধ্যেই আপনাকে পরীক্ষা দিতে হতো। কখনো আপনাকে রিসার্চ পেপার লিখতে হতো। আপনাকে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হতো। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা আপনাকে ফেরতও দিতে হতো। এই তো ছিল রুটিন। পাস করে গেছেন। হঠাৎই আপনি ক্লাসের আনন্দময় পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসেছেন। ওখানে আপনি রুটিনমাফিক পরীক্ষিত হতেন।
সেটা হয়তো হতো সপ্তাহ বা মাসখানেক পর পর। এখন আপনি চাকরিতে ঢুকেছেন। আপনার প্রথম চাকরি। অন্য এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। আপনার দায়িত্বের কাজ শেষ করার সময়সীমা এখনই বা আগামীকাল। কোনো আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা নেই এখন। কিন্তু কখনো ভুলবেন না যে, আপনাকে প্রতিদিন পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলাফলও আসছে, রিপোর্ট কার্ডে নয়, কর্মদক্ষতা পর্যালোচনায়।
সব সময় সবচেয়ে ভালো করার চিন্তা করুন। আপনাকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কেন আপনার নিয়োগদাতা আপনাকে পর্যবেক্ষণ করছেন? আপনি মনে করতে পারেন, এটি টাকার বিষয়, ওরা যে বেতন দেয়। এটি অবশ্যই সত্য। কিন্তু এটিই একমাত্র কারণ নয়।
 শিক্ষাজীবনে ক্লাসরুমে আপনার কর্মদক্ষতা শুরু আপনার ওপর প্রভাব ফেলত। আপনার কলেজ কিংবা প্রফেসরের ওপর নয়। চাকরিতে আপনার পারফরমেন্স কিন্তু পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব ফেলে। আপনার মালিক এমনকি সহকর্মীদের ওপরও। মনে রাখবেন, হুইলে আপনি একটি স্পোক, যা প্রতিষ্ঠানটিকে গতিশীল রাখে। সেই স্পোকটি ভেঙে গেলে আপনার নিয়োগদাতা অন্য
কাউকে খুঁজবেন এবং তাকে আপনার জায়গায় নেবেন।


কর্মক্ষেত্রের ভুলগুলোকখনো অসাবধানতাতেও ভুল হয়ে যেতে পারে। এসব ভুল আমাদের কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি অফিসে নিজের মূল্যায়নেও বিরূপ প্রভাব রাখতে পারে এসব ভুল। অনেক সময় প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এসব ভুলের কারণে। আত্মবিশ্বাসও কমিয়ে দিতে পারে এসব ভুল।
তথ্য ব্যবহার: দৈনন্দিন সব কাজই হয়ে থাকে তথ্য নির্ভর। অফিসে প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের তথ্য বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কিন্তু সাবধানেই ব্যবহার করতে হয়। অনেক সময় আমরা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের তথ্য উন্মুক্ত করে ফেলতে পারি খেয়াল না করেই। সেক্ষেত্রে কিন্তু ওই গ্রাহকটিকে সে তথ্য ব্যবহার করে অন্য কেউ হয়রানি করতে পারে। আর এর দায় কিন্তু নিতে হবে যার কাছ থেকে তথ্যটি বাইরে গেছে, তাকেই। অনেক সময় এসব তথ্যের অপব্যবহার ধরা পড়লে প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কৃতও হয়ে যেতে পারেন।
একই সঙ্গে গ্রাহক বা ক্রেতার তথ্য সংরক্ষণ ও তার গোপনীয়তা রক্ষা করা একটি দায়বদ্ধতাও বটে, যা সংরক্ষণের দায়িত্ব বর্তেছে প্রতিষ্ঠানের এবং সব কর্মীর ওপর। আর যারা এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ, তাদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের সদয় হওয়া বা ক্ষমা করার কোনো কারণ নেই। গ্রাহকের তথ্য ছাড়া যে কোনো ধরনের পরিকল্পনা, বিক্রি, আয়, ব্যয়, মুনাফা, মানবসম্পদ কিংবা প্রযুক্তি সংক্রান্ত তথ্যের শুধু সংগত ও প্রয়োজনমাফিক ব্যবহার হতে হবে।
বিতর্কিত ব্যক্তি এড়িয়ে চলুন: আপনি নিজে শুধু একটি ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেই হবে না, আপনার পরিপার্শ্বের ব্যক্তিত্বের প্রভাবও পড়তে পারে আপনার ওপর। অফিসে আপনি যেমনই হোন না কেন, আপনার পারিবারিকভাবে যাদের সঙ্গে উঠাবসা, তাদের পরিচয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ওঠাবসা যদি এমন কোনো মানুষের সঙ্গে থাকে-যারা অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে জড়িত, তবে তা আপনার জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতেই পারে। তাদের কাজের জন্য অনেক সময় আপনি ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারেন।
আবেগ দমন করুন: স্বাভাবিকভাবেই মানুষ আবেগ দ্বারা তাড়িত হয়ে থাকে। এটা মানুষের একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। তবে কর্মক্ষেত্রে আবেগকে প্রশ্রয় দেয়া কখনোই কাজের কথা নয়। পেশাগত জীবনে যথাসম্ভব আবেগকে পরিহার করে চলাই উচত। রাগ, ক্ষোভ কিংবা রোমান্সের অতি প্রকাশ একজন ব্যক্তির ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তার অর্থ এই নয় যে সবাইকে পুরোপুরি আবেগহীন হয়ে যেতে হবে। পরিমিত আবেগের প্রকাশ অনেক ক্ষেত্রেই কিন্তু জরুরি। পরিস্থিতি ও ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী এই পরিমিত আবেগের সংজ্ঞা ও সীমানা আপনাকেই তৈরি করতে হবে।

No comments:

Post a Comment