Wednesday, October 31, 2012

সামাজিক বিজ্ঞান

১। পাকিস্তানের দু’অংশের মধ্যে প্রদত্ত বৈষম্য :
ক. এ ধরনের বৈষম্যের প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানিদের মূল দাবি কী ছিল?
খ. পশ্চিম পাকিস্তানিরা কীভাবে বাঙালি সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করতে অপপ্রয়াস চালায়?
গ. পূর্ব পাকিস্তানিদের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানিদের অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি তালিকা তৈরি কর।
ঘ. উপরে বর্ণিত বৈষম্য পূর্ব পাকিস্তানিদের স্বাধীনতা আন্দোলনের দিকে ঠেলে দেয়-উক্তিটির যথার্থতা ব্যাখ্যা কর।
ক. উত্তর : এ ধরনের বৈষম্যের প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানের মূল দাবি ছিল স্বাধীনতার।
খ. উত্তর : পশ্চিম পাকিস্তানিরা হিন্দুয়ানি আখ্যা দিয়ে ইসলামি ঐক্যের নামে বাঙালি সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করতে অপপ্রয়াস চালায়। রেডিও-টেলিভিশনে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়। বাংলা নাটক ও সিনেমার প্রতি তারা অবজ্ঞা প্রকাশ করত। এভাবে বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পকলা তাদের বৈষম্যের শিকার হয়।
গ. উত্তর : পাকিস্তান শাসনামলে পূর্ব পাকিস্তান মারাত্মক অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়। পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানিদের অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি তালিকা নিচে দেয়া হলো:
১. পূর্ব পাকিস্তানে উৎপন্ন পাট থেকে বৈদেশিক মুদ্রার তিন ভাগের দু’ভাগ অর্জিত হতো। সে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করা হতো পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে। অথচ পাট চাষিরা পাটের ন্যায্য মূল্য পেত না।
২. মোট রাজস্বের শতকরা ৯৪ ভাগ পশ্চিম পাকিস্তানে খরচ করা হতো। ৩. মোট বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণের শতকরা ১০ থেকে ১৫ ভাগ মাত্র খরচ হতো পূর্ব পাকিস্তানে। ৪. পশ্চিম পাকিস্তানের মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ছিল পূর্ব পাকিস্তানের মাথাপিছু আয়ের দ্বিগুণ।
৫. সীমাহীন অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে পশ্চিম পাকিস্তানে ধনিক গোষ্ঠী সৃষ্টি হয়। পূর্ব পাকিস্তানে যেসব কলকারখানা তৈরি হয়েছিল, তার মালিকও ছিল পশ্চিম পাকিস্তানিরা।
ঘ. উত্তর : পাকিস্তানের দু’অংশের মধ্যেকার সামরিক বৈষম্য ছিল ভয়াবহ। প্রতিরক্ষা বাহিনীর তিনটি সদর দফতর ও অস্ত্র কারখানাগুলো পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থিত ছিল।

No comments:

Post a Comment