Sunday, November 4, 2012

Biology for HSC Exam

জীববিজ্ঞান প্রথম পত্রের ১ নম্বর অধ্যায়ের পঞ্চম পরিচ্ছেদ থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর।
স্বপ্না অণুবীক্ষণ যন্ত্রে একটি ছত্রাক পর্যবেক্ষণ করল, যার শাখান্বিত মাইসেলিয়াম থেকে কনিডিয়োফোর, মেটুলা, স্টেরিগমা ও কনিডিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, সেঁজুতি আরেকটি ছত্রাক পর্যবেক্ষণ করল, যার মাইসেলিয়াম সরু, শাখান্বিত, কনিডিয়াম সামান্য বাঁকা এবং পাঁচ থেকে ১০টি কোষ নিয়ে গঠিত।
প্রশ্ন: ক. ব্যাসিডিওকার্প কী?
প্রশ্ন: খ. রুটিশিল্পে ইস্টের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন: গ. সেঁজুতির পর্যবেক্ষণকৃত ছত্রাকের গঠন বর্ণনা করো।
প্রশ্ন: ঘ. স্বপ্না ও সেঁজুতির পর্যবেক্ষণকৃত ছত্রাক দুটির মধ্যে কোনটি আমাদের জন্য উপকারী? তুলনামূলক আলোচনা করে মতামত দাও।
উত্তর: ক. ব্যাসিডিওমাইসিটিস শ্রেণীর ছত্রাকের ফ্রুটবডিকে ব্যাসিডিওকার্প বলে।
উত্তর: খ. পাউরুটি তৈরিতে ইস্ট ব্যবহার করা হয়। ময়দার সঙ্গে ইস্ট পাউডার মিশ্রণের ফলে ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় Co2 গ্যাস ও অ্যালকোহল তৈরি হয়। Co2 গ্যাসের চাপে রুটি ছিদ্রযুক্ত ও ফাঁক ফাঁক হয়। অ্যালকোহল বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। রুটিশিল্পকে বেকারি বলে। এভাবে ইস্ট রুটিশিল্পে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উত্তর: গ. সেঁজুতির পর্যবেক্ষণকৃত ছত্রাকটি Helminthosporium-এর মাইসেলিয়াম সরু, শাখান্বিত ও প্রস্থ প্রাচীরযুক্ত। পোষক দেহের কোষাভ্যন্তরে ও কোষান্তরে বাস করে। পাতার নিম্নতলে পত্ররন্ধ্র দিয়ে বা বিদীর্ণ ত্বক দিয়ে খাড়া শাখা বের হয়ে আসে। এসব শাখাকে কনিডিয়োফোর বলে। কনিডিয়োফোরের মাথায় বাদামি বর্ণের কনিডিয়া সৃষ্টি হয়। কনিডিয়াগুলো লম্বা, সামান্য বাঁকা এবং পাঁচ থেকে ১০টি কোষ দিয়ে গঠিত। এগুলো মুক্ত হয়ে বাতাসের সাহায্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনাক্রান্ত ধানগাছকে আক্রমণ করে।
উত্তর: ঘ. স্বপ্নার পর্যবক্ষেণকৃত ছত্রাকটি Penicillium এবং সেঁজুতির পর্যবেক্ষণকৃত ছত্রাকটি Helminthosporium।
Penicillium-এর উপকারী দিক:
১. অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ উত্পাদনে: বর্তমানে Penicillium chrysogenum থেকে উত্কৃষ্ট মানের ও অধিক পরিমাণে পেনিসিলিন ওষুধ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তৈরি হয়। Pneumococcus, Staphylococcus, Streptococcus প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়াগঠিত বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে পেনিসিলিন ব্যবহারের ফলে বহু রোগীর জীবন রক্ষা পাচ্ছে।
২. পনির উত্পাদনে: নীল পনির উত্পাদনে Penicillium Camemberti ও Penicillium roqueforti ব্যবহূত হয়। এদের নীল স্পোরের জন্য পনির নীল দেখায়।
৩. জৈব অ্যাসিড তৈরিতে: সাইট্রিক অ্যাসিড, ফিউমারিক অ্যাসিড, অক্সালিক অ্যাসিড ও ম্যালিক অ্যাসিড তৈরি করতে Penicillium ব্যবহূত হয়।
৪. ওষুধ উত্পাদনে: Penicillium griscofulvum নামক প্রজাতি থেকে গ্রাইসিও ফুলভিন নামক ওষুধ তৈরি হয়, যা দাদ ও ছত্রাকঘটিত রোগের চিকিত্সায় ব্যবহূত হয়।
Penicillium-এর অপকারী দিক: Penicillium দ্বারা কমলা, আপেল, নাশপাতি ও আঙুর ফল সহজেই আক্রান্ত হয় এবং দ্রুত পচে নষ্ট হয়। Penicillium জন্মানোর ফলে বই, কাগজ, চামড়া ইত্যাদি দ্রব্যে দাগ পড়ে ও নষ্ট হয়। Penicillium কিছু গৃহপালিত পশু ও মানুষের নাক, কান, মুখমণ্ডল, ফুসফুস ও যকৃতের রোগ সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে, সেঁজুতির পর্যবেক্ষণকৃত Helminthosporium-এর বিভিন্ন প্রজাতি বিভিন্ন উদ্ভিদে রোগ সৃষ্টি করে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এদের আক্রমণে ধানের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায় এবং ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়। Helminthosporium নামক ছত্রাকের কোনো উপকারী ভূমিকা নেই। সুতরাং, উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে স্বপ্নার পর্যবেক্ষণকৃত Penicillium ছত্রাকটি আমাদের জন্য উপকারী।

No comments:

Post a Comment