Saturday, August 18, 2012

৭৭ গম্বুজের মসজিদ ষাটগম্বুজ


৭৭ গম্বুজের মসজিদ ষাটগম্বুজ
প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো সমৃদ্ধ এক নগরী খলিফাতাবাদ। বাগেরহাট ও আশপাশজুড়ে বিস্তৃত ছিল এই নগররাজ্য। খলিফাতাবাদ রাজ্যের সচিবালয় ছিল ষাটগম্বুজ মসজিদ। সেই রাজ্যের শাসক ছিলেন খানজাহান আলী (১৪১৮-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ)। তিনি ছিলেন একাধারে রাজা, ধর্মগুরু, প্রকৌশলী ও সেনাপতি। ধারণা করা হয়, মসজিদটি তিনি নির্মাণ করেছিলেন ১৪৫০ খ্রিস্টাব্দে। এটি সুলতানি আমলে তৈরি বাংলার সবচেয়ে বড় মসজিদ। লম্বায় ১০৬ হাত, চওড়ায় ৭২ হাত মসজিদটি নির্মাণ করতে কয়েক বছর লেগেছিল। লাল রঙের পোড়ামাটির দেয়ালগুলোর ওপর লতাপাতার অলংকরণ মধ্যযুগীয় স্থাপত্যশৈলীর অপূর্ব নিদর্শন। এই মসজিদে বসেই রাজ্য পরিচালনা করতেন খানজাহান আলী। নিয়মানুসারে মসজিদের কেন্দ্রীয় মিহরাবের উত্তরে একটি মিহরাব থাকার কথা। তবে মসজিদের ওই জায়গায় আছে ছোট একটি দরজা। এই দরজা দিয়েই খানজাহান আলী যাতায়াত করতেন। খানজাহান আলীর সৈন্য-মুরিদ-ভক্তরা নামাজ, ওয়াজ ও বিচারের সময় অস্ত্র মিহরাবে রেখে দিতেন। বিপৎসংকেত পেলে অস্ত্রহাতে মিহরাব বরাবর পূর্ব দিকের ১০টি দরজা দিয়ে অভিযানে বেরিয়ে যেতেন। সে আমলে মসজিদটি ইবাদতখানা, ঈদগাহ, দরবারকক্ষ, মাদ্রাসা, খানকাহ্ শরিফ, মুসাফিরখানা, লঙ্গরখানা, সরাইখানা, সৈনিকদের দুর্গ ও বিচারালয় হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তখন এ অঞ্চলে ফারসি ভাষা চালু ছিল। ফারসি ভাষায় পিলারকে বলে গম্বুজ। অনুমান করা হয়, মসজিদের অভ্যন্তরে ৬০টি পিলার থাকায় একে 'ষাটগম্বুজ মসজিদ' নামে ডাকা হয়। কেউ কেউ বলেন, মসজিদের ওপর সাত সারি গম্বুজ আছে বলে একসময় একে 'সাতগম্বুজ মসজিদ' নামে ডাকা হতো। অপভ্রংশ হয়ে সে নাম এখন হয়ে গেছে 'ষাটগম্বুজ'। মসজিদের বাইরে একসময় বিরাট এলাকাজুড়ে বেষ্টক দেয়াল ছিল। পূর্ব দিকে ছিল দুই পাশে দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রবেশ তোরণ। প্রাচীরটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, আছে কেবল প্রবেশ তোরণ। মসজিদের পেছনে আছে বিশাল এক দিঘি। নাম ঘোড়াদিঘি। মসজিদের সামনে রয়েছে জাদুঘর। ১৯৯২ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরে রয়েছে পনেরো শতকের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নসম্পদ।

* সুলতানি আমলের মসজিদগুলোর প্রতিটি গম্বুজই সমান। দালানগুলো ছোট ছোট ইটের তৈরি, দরজাগুলো কাঠের।

No comments:

Post a Comment