Thursday, January 17, 2013

কলার ষোলোকলা

১। বাড়তি খাবারেও স্বস্তি
অনেকেই জেনে-না জেনে কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাত্রাতিরিক্ত খাবার খান। এ অবস্থায় ব্লাড সুগার লেভেল অস্বাভাবিক হতে পারে। পরিস্থিতি এমন হলে শরীর স্বাভাবিক রাখতে বেশ কাজ দেবে কলা।
২। ভালো থাকবেন নারী
নারীদের ক্ষেত্রে অনেকটা পিলের মতো কাজ করে কলা। কলা শরীরে ভিটামিন বি৬ ও রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে মনকেও সতেজ রাখে। মাসিক ঋতুস্রাবের কারণে শরীরে প্রি-মিনস্ট্রুয়াল সিন্ড্রোম (পিএমএস) দেখা যায়, কলা এ সমস্যা কমায়।
৩। পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ
কলায় থাকা পটাশিয়াম মস্তিস্কে অক্সিজেন সরবরাহ করে। এর ফলে পানির সাম্যতা নিয়ন্ত্রণ হয়। অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকলে শরীরের পটাশিয়াম স্তর কমতে থাকে, কলা এ ঘাটতি পূরণ করে শারীর পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখে।
৪। ভুলোমনারাও খেতে পারেন
ভুলোমনারাও খেতে পারেন কলা। এতে পটাশিয়ামের উপস্থিতির কারণে এটি মস্তিষ্ককে আরো কার্যক্ষম করে এবং দ্রুত শিখতে সাহায্য করে। স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও বেশ ভালো কাজ দেয় কলা।
৫। ধুমপায়ীরাও কলা খান
ধূমপায়ীদের জন্য কলা বেশ কার্যকর। কলায় থাকা ভিটামিন বি৬, বি১২, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীর কে রক্ষা করে। ধূমপানে ছাড়তেও শরীরকে তৈরি করে কলা। এ কারণে ডাক্তাররা ধূমপায়ীদের কলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
৬। গর্ভকালীন সময়ে...
গর্ভকালীন সময়ে মহিলারা শারীরিক ও মানসিকভাবে বাড়তি চাপে থাকে। এ ছাড়াও শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকে। ওই সময় কলা খেলে শরীর-মন স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে আসে।
৭। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়
এক গবেষণায় গেছে, কিডনির ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে যেসব ফলমূল বেশ কাজে দেয়, এর মধ্যে কলা অন্যতম। যারা সপ্তাহে চার থেকে ছয় বার কলা খায়, তাদের ক্যান্সারের ঝুকি কম থাকে।
৮। স্ট্রোকের ঝুঁকিমুক্ত
শরীরে পর্যাপ্ত পরিমানের লবণ ও পটাশিয়াম সরবরাহ করে কলা। নিয়মিত কলা খেলে উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকির আশঙ্কা কম থাকে।
৯। রক্তশূন্যতা নয়
কলায় প্রচুর আয়রন থাকে, যা হিমোগ্লোবিন তৈরি করে। এটি শরীরে রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়ার ঝুঁকি কমাবে।
১০। বাড়বে শক্তি
কলা শরীরে দরকারি শর্করা সরবরাহ করে। এটি পেশীর প্রয়োজনীয় ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি শরীরে শক্তি বাড়ায়।
১১। মাথা কাজ করছে তো?
ব্যস্ততা বা বিভিন্ন কারণে মাথা জ্যাম বা চিন্তা শক্তি কমে যেতে পারে। এ পরিস্তিতিতেদিনে দু’বার কলা খেতে কলা খাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। আপনার রক্তে সুগার লেভেল ঠিক রেখে চিন্তা শক্তির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে কলা।
১২। থাকবে না বিষন্নতা
গবেষকরা বলছে, কলা হতাশা কমায়। কলার রাসায়নিক উপাদান ‘ট্রিপ্টোফ্যান’ হতাশাগ্রস্থদের সেরোটোনিন লেভেল বাড়িয়ে মন-মেজাজ ভালো রাখে।
১৩। ঠিকঠাক তাপমাত্রা
শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে কলাই যথেষ্ট। মাঝে মাঝে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হয়ে পড়লে কলার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
১৪। অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য
শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে কলা। পাকা কলায় প্রচুর ফাইবার আছে। শরীরের মল ব্যবস্থাপনায় এ ফাইবার ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া কাঁচাকলা ডায়রিয়া’র সময় শরীরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১৫। কমবে জ্বালা-পোড়া
গ্যস্ট্রিক বা আলসারের কারণে যাদের বুকে জ্বালা-পোড়া আছে, তারা ‘এন্টাসিড’ ট্যাবলেটের বিকল্প হিসেবে কলা খেতে পারেন। ডাক্তারদের মতে, গ্যাস্ট্রিকের রোগীর নিয়মিত কলা খাওয়া উচিত।
১৬। মৌসুমী রোগেও কলা
ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে কিছু মৌসুমী রোগও ছড়িয়ে পড়ে। ওই পরিস্থিতিতে রোগীরা কলা খেতে পারেন। এর মধ্যে থাকা ‘মুড এনহ্যান্সার প্রোটিন ট্রিপটোফ্যান’ রোগীদের শরীর স্বাভাবিক করতে বেশ সক্রিয় থাকে।
তথ্যসূত্র: ইয়াহু লাইফস্টাইল, হ্যালদিয়েস্ট ফুড।

No comments:

Post a Comment