Saturday, December 1, 2012

বাংলা প্রথমপত্র২০১৩ সালের এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি

মডেল প্রশ্ন

ক-বিভাগ(গদ্য)

১। কেষ্ট ভাত খাইতে বসিয়াছিল। কাল বিকাল হইতে খাওয়া হয় নাই। আজ এতখানি পথ হাঁটিয়া আসিয়াছে, তাই পাতের ভাতগুলি নিঃশেষ করিয়াও তাহার ক্ষুধা মেটে নাই। নবীন

লক্ষ করিয়া স্ত্রীকে কহিলেন,"কেষ্টকে আর দুটো ভাত দাও গো।" দিই, বলে কাদম্বিনী উঠিয়া গিয়া পরিপূর্ণ এক থালা

ভাত আনিয়া সমস্তটা তাহার পাতে ঢালিয়া দিয়া উচ্চ হাস্য করিয়া কহিলেন,"তবেই হয়েছে। এ হাতির খোরাক নিত্য যোগাতে গেলে যে আমরা দেউলিয়া হয়ে যাব। মর্মান্তিক লজ্জায় কেষ্টর মুখখাানি আরও ঝুঁকিয়া পড়িল। দুঃখিনী মায়ের কাছে পেট ভরে খাওয়ার অপরাধে কোনোদিন লজ্জায় মাথা হেট করিতে হয় নাই। তাহার দুই চোখের কোণ বাহিয়া বড় বড় অশ্রুর ফোঁটা ভাতের থালার উপর ঝরিয়া পড়িল।

(মেজদিদি: শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)

(ক) মামি মাসের মধ্যে কয়বার করে বই কিনে দিতে পারবে না বলে ফটিককে জানালো?

(খ) 'এক বাঁও মেলে না। দো বাঁও মেলে- এ - এ না।' ফটিকের এ কথা বলার কারণ কী?

(গ) উদ্দীপকে 'ছুটি' ছোটগল্পের কোন্ দিকটি ফুটে ওঠেছে? বর্ণনা কর।

(ঘ) কেষ্টকে ফটিকের প্রতিবিম্ব বলা যায় কি?- 'ছুটি' ছোটগল্পের আলোকে যুক্তি দেখাও।

২। কবি আল মাহমুদ একজন দেশিয় ঐতিহ্যপ্রিয় মানুষ। তাঁর চোখে বাংলাদেশের নানাবিধ অপূর্ব সৌন্দর্য সম্ভার ভেসে ওঠে। কবি সেই সৌন্দর্যে মুগ্ধ ও আপ্লুত। কিন্তু তিনি এটাও ভেবে ব্যথিত হন যে, বিশ্বায়নের যুগে আমাদের দেশের অনেক নিজস্ব ঐতিহ্য ও সম্পদ দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই তিনি বাংলাদেশের হারানো ঐতিহ্য ও সম্পদ পুনরায় ফিরে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজার ব্যাকুলতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর রূপকধর্মী নোলক' কবিতায় সেই কথাই ফুটে ওঠেছে। কবির ভাষায়:

"আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে,

হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।"

(ক) 'ফোকলোর' কথাটির উদ্ভাবক কে?

(খ) 'পল্লিসাহিত্যে পল্লি জননীর হিন্দু মুসলমান সকল সন্তানেরই সমান অধিকার'- প্রাবন্ধিক কোন্ প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন?

(গ) উদ্দীপকে 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের কোন্ দিকটির ইঙ্গিত ফুটে ওঠেছে? বর্ণনা কর।

(ঘ) প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও দুই লেখকের একটি উদ্দেশ্য একই চেতনায় গ্রথিত হয়েছে - মন্তব্যটি 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন কর।

৩। কথিত আছে- আব্দুল কাদের জিলানী (র.) ছোটবেলা থেকেই খুবই সত্যবাদী ছিলেন। একবার তাঁর মা তাকে পড়ালেখার জন্য এক কাফেলা দলের সাথে বাগদাদে পাঠান। সঙ্গে ৪০ দিরহাম স্বর্ণ জামায় সেলাই করে দেন এবং সর্বদা সত্য কথা বলতে উপদেশ দেন। পথে ডাকাতের সর্দার তাঁর সমস্ত শরীর তন্ন তন্ন করে খোঁজার পর কিছু না পাওয়াতে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, "এ বালক, তোমার কাছে কী আছে?" প্রত্যূত্তরে তিনি ৪০ দিরহাম স্বর্ণের কথা বলেন। ডাকাতরা তাঁর সত্যবাদীতার গুণে মুগ্ধ হন এবং বিগত বছরের খারাপ কাজের জন্য অনুতপ্ত হয়ে পরবর্তীতে ভালো মানুষে পরিণত হন।

(ক) ক্ষুিপপাসায় কাতর মানুষটিকে তৃপ্ত রাখতে না পারলে কী উপলব্ধি করা যায় না?

(খ) 'শিক্ষার আসল কাজ জ্ঞান পরিবেশন নয়, মূল্যবোধ সৃষ্টি'- কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা কর।

(গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ডাকাতদের ঐ ঘটনায় ভালোপথে ফিরে আসার কারণ 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের' আলোকে বর্ণনা কর।

(ঘ) উদ্দীপকে 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের' মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে কি?- যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ কর।

খ-বিভাগ(কবিতা)

৪। নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল

তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল;

গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান,

কাষ্ঠ দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্ন দান;

স্বর্ণ করে নিজ রূপে অপরে শোভিত,

বংশী করে নিজ সুরে অপরে মোহিত;

শস্য জন্মাইয়া নাহি খায় জলধরে,

সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে।

(ক) কবি কামিনী রায় কোন্ শতকের কবি?

(খ) 'লুকান বিষাদ আঁধার অমায়' বলতে কবি কী বুঝাতে চেয়েছেন?

(গ) উদ্দীপকে 'পরার্থে' কবিতার যে চেতনা প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

(ঘ) চেতনাগত সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'পরার্থে' কবিতার সামগ্রিক রূপ নয়- মন্তব্যটির যৌক্তিক বিশ্লেষণ কর।

৫। দীনু একজন আদর্শ ডাকপিয়ন। একদিন রাতে ডাকের মালামাল নিয়ে আসার সময় তিনি এক ডাকাত কর্তৃক ভীষণভাবে আহত হন। প্রাণপণ লড়াই করে তিনি সরকারি মালামাল রক্ষা করেন। হাতাহাতির এক পর্যায়ে তিনি ঐ ডাকাতকে চিনতে পারেন। ডাকাতটি ছিল তার নিজের ছেলে নিতাই। পরদিন পুলিশ ঘটনাটির অপরাধী সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সত্য কথায় নিজের ছেলের নাম প্রকাশ করেন।

(ডাকহরকরা: সুকান্ত ভট্টাচার্য)

(ক) হযরত উমর ফারুক (রা.)- এর পুত্রের নাম কী?

(খ) হযরত উমর ফারুক (রা.)-কে কবি 'চীরধারী সম্রাট' বলেছেন কেন?

(গ) উদ্দীপকে দীনুর চরিত্রে উমর ফারুক (রা.)- এর কোন্ চারিত্রিক গুণটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

(ঘ) উদ্দীপকটি 'উমর ফারুক' কবিতার আংশিক দিকই ধারণ করে- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

৬। (ক) 'অশান্ত অশোক' কোন্ জাতীয় গ্রন্থ?

(খ) 'সারা বাংলায় আজ উড্ডীন সেই রক্তাক্ত পতাকা'- বলতে কবি কী বুঝাতে চেয়েছেন?

(গ) উদ্দীপকের চিত্রে 'শহিদ স্মরণে' কবিতার যে/ যে যে আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় তা ব্যাখ্যা কর।

(ঘ) উদ্দীপকের চিত্রটি 'শহিদ স্মরণে' কবিতার মূল চেতনা প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে কি?- যুক্তি দাও।

গ-বিভাগ(সহপাঠ)

৭। একটি দৈনিক পত্রিকার সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন:

চৌদ্দ বছরের বাসন্তী নামে এক গ্রাম্য সুন্দরী মেয়ে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। গরিব হলেও মেধাবী ছাত্রী বলে সে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যায়; কিন্তু কিছু বখাটে ছেলে তাকে প্রায় দিনেই ইভটিজিং করতে থাকে। ব্যাপারটি তার মা-বাবা জানতে পারে। ফলে তার বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। বাড়িতে বন্দি থাকতে থাকতে এক পর্যায়ে চপলা মেয়েটি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, সব সময় চুপচাপ বসে থাকে, কারো সাথে কথাও বলে না। সবার ধারনা- তাকে ভূতে ধরেছে। তাই পাশের গ্রাম থেকে এক কবিরাজকে ডেকে এনে পানিপড়া ও তাবিজ দিয়ে তার চিকিত্সা করা হয়।

(ক) কার সাথে হীরনের বিয়ে ঠিক হয়?

(খ) হালিমা কেন আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল?

(গ) উদ্দীপকে 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের কোন দিকটি ফুটে ওঠেছে? বর্ণনা কর।

(ঘ) সাদৃশ্য থাকলেও বাসন্তী পুরোপুরি সখিনার মতো নয়- মন্তব্যটি 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের আলোকে যুক্তিসঙ্গত মতামত দাও।

৮। উদ্দীপক- ১: স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে? কে বাঁচিতে চায়?

পরাধীনতার শৃঙ্খল বল, কে পরিবে পায় হে? কে পরিবে পায়?

উদ্দীপক- ২: কীর্তিমানের মৃত্যু নাই।

(ক) 'কবর' নাটকটির শেষ সংলাপটি কার?

(খ) হাফিজ ও নেতা কেন কবর স্থানে গিয়েছিল?

(গ) উদ্দীপক (১)- এ 'কবর' নাটকের কোন দিকটির ইঙ্গিত ফুটে ওঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

(ঘ) উদ্দীপক (১) ও উদ্দীপক (২) 'কবর' নাটকের সমগ্রভাব ধারণ করে না— মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর।

৯। জনাব ওহাব ঢাকা শহরের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং বিদ্যালয়ের নিকটে একটি ফ্লাটে স্ত্রীসহ ভাড়া থাকেন। তিনি পাশের ফ্ল্যাট থেকে প্রায় প্রতিদিনে, এমনকি গভীর রাতেও 'বাঁচাও বাঁচাও' বলে করুন কান্নার চিত্কার শুনতে পান। একদিন তিনি ধৈর্য ধরতে না পেরে ঐ বাসায় কলিং বেল টিপে তাদের সমস্যার কথা জানতে চাইলেন। জহুরুল নামে লোকটি রাগান্বিত হয়ে বললেন,"দয়া করে আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপারে নাক গলাতে আসবেন না, আমার স্ত্রীকে আমি যা ইচ্ছে তা করতে পারি।" তিনি বিস্মিত হলেন এবং ভাবলেন- অসহায় গৃহবধুর কান্নার আওয়াজ শুধু গ্রামেই শোনা যায় না, রাজধানী শহর ঢাকাতেও শোনা যায়। যাহোক, তিনি ব্যাপারটি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে না পারাতে পরের দিনেই ঐ নির্যাতিত নারীর পক্ষ হয়ে একজন লেখক হিসেবে প্রতীকীভাবে লিখে পত্রিকার পাঠকের মনে নাড়া দেওয়ার জন্য কলমের হাত একটু শক্ত করে ধরলেন।

(ক) কোন শক্তিকে 'উপন্যাসের চিত্শক্তি' বলা হয়?

(খ) জমিলা আবুলের সংসারে দুবছর কীভাবে টিকেছিল?

(গ) উদ্দীপকে বর্ণিত জহুরুলের সাথে 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের কোন্ চরিত্রের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়? বর্ণনা কর।

(ঘ) ঔপন্যাসিক জহির রায়হান যে উদ্দেশ্যে 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসটি রচনা করেছেন, সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য খানিকটা হলেও জনাব ওহাব চেষ্টা করেছেন বলে কি তুমি মনে কর? তোমার মতের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

No comments:

Post a Comment